সামনের দিনগুলোয় বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধিতে আরো ধীরগতি দেখা দিতে পারে। এছাড়া ওপেক প্লাস আগামী এপ্রিল থেকে পণ্যটির উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উদ্বৃত্ত আরো বাড়বে। এমন প্রেক্ষাপটে আগামী বছরের জন্য ব্রেন্ট (অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ) ও ডব্লিউটিআইয়ের (মার্কিন বাজার আদর্শ) গড় মূল্য নিয়ে পূর্বাভাস সংশোধন করে কমিয়ে এনেছে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস। খবর রয়টার্স।
গোল্ডম্যান স্যাকস রোববার এক নোটে জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ব্রেন্টের দাম হতে পারে ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলার, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ৫ ডলার কম। এ সময় প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম কমে দাঁড়াতে পারে ৬৭ ডলারে।
সংস্থাটি আরো জানায়, আগামী বছরের জানুয়ারিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়তে পারে দৈনিক গড়ে ৯ লাখ ব্যারেল, যা আগে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১৮ শতাংশ কম। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময় ব্রেন্ট ব্যারেলপ্রতি ৬৫-৮০ ডলারের মধ্যে লেনদেন হবে এবং ২০২৬ সালে গড় মূল্য হবে ৬৮ ডলার।
নোটগোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা বলেন, ‘আমাদের পূর্বাভাসের মধ্যমেয়াদি ঝুঁকি এখনো জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করে চলেছে। কারণ সামনের দিনগুলোয় বাণিজ্য শুল্ক আরো বাড়তে পারে। এছাড়া ওপেক প্লাসের উত্তোলন বাড়ানোর মেয়াদ দীর্ঘ হতে পারে।’
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ভিটল গ্রুপ ও গানভর গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত সরবরাহের পূর্বাভাস দিচ্ছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) গত সপ্তাহে জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যযুদ্ধ ও ওপেক এবং তার মিত্রদের সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির কারণে চাহিদা কমছে। সংস্থাটি ২০২৪ সালে দৈনিক গড়ে ছয় লাখ ব্যারেল অতিরিক্ত সরবরাহের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা বৈশ্বিক দৈনিক ব্যবহারের প্রায় দশমিক ৬ শতাংশ।
তবে গোল্ডম্যান স্যাকস বলেছে, আসন্ন মাসগুলোয় জ্বালানি তেলের দামে কিছুটা পুনরুদ্ধার ঘটতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে ও ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা নীতি শিথিল হওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক লক্ষণ নেই। অন্যান্য ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়ে গেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত স্থাপনাগুলোর ওপর সর্বশেষ মার্কিন সামরিক হামলার আদেশ, যা লোহিত সাগরের জাহাজ চলাচলকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এমনকি এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্টের দাম ৫৬ সেন্ট বা দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৭১ ডলার ১৪ সেন্টে। এদিন ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫৬ সেন্ট বা দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার ৭৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্বে জ্বালানি তেল ব্যবহারে শীর্ষ দেশ চীন। অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে গতি আনতে দেশটির মন্ত্রিসভা ‘বিশেষ কর্মপরিকল্পনা’ ঘোষণা করেছে। এসইবি রিসার্চের প্রধান পণ্য বিশ্লেষক বিয়র্ন শিলড্রপ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের বাজার বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব ও চীনের প্রণোদনা পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাবের মধ্যে ভারসাম্য রয়েছে।’